সন্তানের আচরণ নিয়ে আমরা অনেক সময় ভাবনায় পড়ি—বাচ্চা জেদ করে, কথা শোনে না, ছোট ছোট ব্যাপারে রেগে যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, এই আচরণগুলো আসলে আমাদের নিজেদেরই প্রতিফলন? সন্তান আমাদের কথা কম শেখে, কিন্তু আমাদের আচরণই সবচেয়ে বেশি শেখে।
আমরা যেমন—সন্তান তেমনই হয়ে ওঠে। শিশুরা কথা অনুকরণ করে না, তারা আচরণ অনুকরণ করে। আধুনিক Child Psychology বলে: “Children learn more from what you are than what you teach.” অর্থাৎ মা-বাবা নিজেরাই সন্তানের জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল।
ইসলামও ঠিক এই সত্যটিই ১৪০০ বছর আগে শিখিয়েছে। রাসূল ﷺ বলেছেন: “প্রত্যেক শিশু ফিতরাত নিয়ে জন্মায়।” অর্থাৎ তার হৃদয় একদম পরিষ্কার সাদা পাতার মতো। মা-বাবা যা দেখায়, যে পরিবেশে বড় করে, তার চরিত্র ঠিক সেভাবেই গড়ে ওঠে।
রাসূলুল্লাহ সা. শিশুদের আদব শেখানোর আগে নিজে আদব দেখাতেন—কথায় নরমতা, আচরণে মমতা, দৃষ্টিতে ভালোবাসা। ফলে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সুন্দর আখলাক অনুসরণ করত।
বিজ্ঞান ও ইসলাম—দুটোই বলে যে সন্তান তার বাবা-মায়ের: কণ্ঠস্বর, রাগ নিয়ন্ত্রণ, আচরণ, দাম্পত্য সম্পর্ক, ইবাদতের পরিবেশ—সবকিছু থেকেই character শেখে। আপনি উচ্চস্বরে কথা বললে শিশুদের মনে যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে তার আচরণে প্রকাশ পায়।
আপনি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সন্তানও শিখবে রাগের সময় চুপ থেকে নিজেকে সামলাতে। আপনি বাসায় সালাম, দোয়া, Sunnah habits চালু রাখলে—সন্তানের character-এর ভেতরেও ধীরে ধীরে সেই বিষয়গুলো ঢুকে যায়।
মনোবিজ্ঞান প্রমাণ করে যে সন্তানের জীবনের প্রথম ৭ বছর হলো character imprinting stage। এই সময়ে মা-বাবার প্রতিটি আচরণ সরাসরি সন্তানের মস্তিষ্কে ‘প্যাটার্ন’ হয়ে জমা হয়।
শিশুর প্রথম সাত বছর হলো স্নেহ, খেলা ও প্রাকৃতিক বিকাশের সময় — যা modern developmental science-এর সাথে পুরোপুরি মিল।
শিশুরা নির্দেশ শুনে শেখে না, বরং আমাদের প্রতিটি আচরণ পর্যবেক্ষণ করে character বানিয়ে নেয়।
তাই সন্তানের আচরণ পরিবর্তনের আগে নিজের আচরণ পরিবর্তন করাই সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান।
প্রতিদিন মাত্র তিনটি Sunnah practice parent-child bonding অসাধারণভাবে বদলে দিতে পারে: নরম কণ্ঠে কথা বলা, মাথায় হাত রেখে দোয়া করা, এবং সন্তানের সামনে ইবাদতকে ভালোবাসার পরিবেশে দেখানো।
আপনি নিজের আচরণে-এ সামান্য সৌন্দর্য আনলে—সন্তানের আচরণে অসাধারণ পরিবর্তন আসবে। ঝগড়ার বদলে শান্তি, রাগের বদলে সংযম, কটু কথার বদলে সদাচরণ—
এসব সন্তান শব্দে নয়, চোখে দেখে শেখে। বাস্তব সত্য হলো: আমরা নিখুঁত নই, সন্তানও নিখুঁত হবে না। কিন্তু যদি আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেদের পরিবর্তন করি, সন্তান আমাদের ছায়ায় নয়—আমাদের আলো হয়ে বড় হবে।
এছাড়া আমরা আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত চাইতে পারি: “হে আল্লাহ, আমাদের আখলাককে সুন্দর করো এবং সেই সৌন্দর্যের সুবাস আমাদের সন্তানদের হৃদয়েও প্রবাহিত করো ।