আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত অভিভাবক,
একজন সচেতন কর্মজীবী মা হিসেবে আপনি নিজের পেশার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তানের সঠিক দ্বীনি ও মানসিক বিকাশের জন্য যে ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন, আল্লাহ তা কবুল করুন। ১২ বছর বয়সটি শৈশব থেকে কৈশোর ও বয়ঃসন্ধির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ট্রানজিশন পিরিয়ড। এ বয়সে সন্তানরা নিজের অবচেতন স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মা সারাদিন বাইরে থাকার পর বাড়ি ফিরে যখন কেবল পড়াশোনার নির্দেশ ও শাসন নিয়ে আসেন, তখন সন্তানের হৃদয়ে অভিমান ও দূরত্ব তৈরি হয়। একে মারধর বা বকাঝকা দিয়ে নয়, বরং গভীর বন্ধুত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক সান্নিধ্য দিয়ে নিরাময় করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "নিশ্চয়ই কোমলতা যে বিষয়েই থাকে, তাকে সুন্দর ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে; আর যে বিষয় থেকেই তা কেড়ে নেওয়া হয়, তাকে ত্রুটিযুক্ত ও কলুষিত করে।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮৮)
১২ বছর বয়সে মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ও লিম্বিক সিস্টেমের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে সন্তান নিজের মতামত প্রকাশ করতে চায়। কর্মজীবী মায়ের সারাদিনের অনুপস্থিতির পর বাড়ি ফিরেই যদি সন্তান কেবল পড়াশোনার তাগাদা ও আদেশ শোনে, তবে তার মস্তিষ্ক সেটিকে আক্রমণ মনে করে অবচেতন প্রতিরক্ষামূলক বিরক্তি (অবচেতন আত্মরক্ষামূলক বিরক্তি) প্রকাশ করে।
মাওলানা মুহাম্মাদ সাদ লিখেছেন—সন্তান যখন বড় হতে থাকে, তখন মা-বাবার শাসনের লাঠি নামিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে হয়। কৈশোরে পদার্পণ করা সন্তানকে একতরফা নির্দেশ দিলে সে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে; তাকে নিজের দ্বিমুখী আলোচনায় সমান অংশীদার বানালে সে দায়িত্ববান হয়।
আপনার সন্তানের বয়স ও সুনির্দিষ্ট সমস্যা সরাসরি আমাদের ট্রেইনার টিমের কাছে জমা দিন