আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত অভিভাবক,
আপনার ৭ বছর বয়সী সন্তানের অবাধ্যতা, নিয়ম না মানা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং বড়দের সাথে তর্কের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত মনোযোগ ও দরদের সাথে অনুধাবন করেছি। এই বয়সে শিশুরা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য ও ক্ষমতা প্রকাশ করতে চায়। যখন তারা বারবার শাসন বা আদেশের মুখোমুখি হয়, তখন নিজেদের স্বাধীন সত্তা রক্ষার্থে তারা উল্টো আচরণ ও তর্কের আশ্রয় নেয়। ধৈর্য ও সুন্নাহসম্মত কৌশলে এই মেজাজকে ইতিবাচক শৃঙ্খলায় রূপান্তর করা সম্ভব।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল ও নম্র, তিনি সকল কাজে নম্রতা পছন্দ করেন। আর তিনি নম্রতার বিনিময়ে এমন কিছু দান করেন, যা কঠোরতার বিনিময়ে দেন না। (সহিহ মুসলিম: ২৫৯৩)
৭ বছর বয়সী শিশুর মস্তিষ্কের চিন্তা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এখনো সম্পূর্ণ বিকশিত নয়। শিশুকে সরাসরি নির্দেশ দিলে তার মস্তিষ্ক একে স্বাধীনতা হরণ মনে করে অবাধ্যতা তৈরি করে। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চঞ্চলতা ও শারীরিক শক্তি যখন সঠিক কাজের মাধ্যমে ব্যয় হতে পারে না, তখন শিশু সারাক্ষণ লাফালাফি ও তর্কের মাধ্যমে বড়দের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে।
মাওলানা মুহাম্মাদ সাদের দিকদর্শন অনুযায়ী—সন্তানকে কোনো আদেশ মানাতে হলে আগে তার সাথে হৃদয়ের গভীর সেতুবন্ধন গড়তে হয়। শাসন বা নিয়ম হলো ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ। যে সন্তানের আত্মায় অভিভাবকের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভালোবাসা প্রোথিত হয়, সে কখনো মা-বাবার মুখের ওপর অবাধ্য হতে পারে না।
আপনার সন্তানের বয়স ও সুনির্দিষ্ট সমস্যা সরাসরি আমাদের ট্রেইনার টিমের কাছে জমা দিন